বাগযন্ত্র (পরিচ্ছেদ ৪)

নবম-দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি | NCTB BOOK
18.2k
Summary

বাগযন্ত্র হল মানবদেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ যেগুলি ধ্বনি উৎপাদনে কাজ করে। এগুলোর মধ্যে ফুসফুস, স্বরযন্ত্র, জিভ, আলজিভ, তালু, মূর্ধা, দন্তমূল এবং ওষ্ঠ অন্তর্ভুক্ত।

  • ফুসফুস: ধ্বনি সৃষ্টি করতে বায়ুপ্রবাহের উৎস, শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করে।
  • স্বরযন্ত্র: শ্বাসনালির উপরের অংশে অবস্থিত, বাতাস বের হওয়ার ফলে ধ্বনি তৈরি হয়।
  • জিভ: মুখগহ্বরের নিচে অবস্থিত, ধ্বনির বৈচিত্র্য তৈরি করে।
  • আলজিভ: কোমল তালুর পিছনে ঝুলন্ত, নাক দিয়ে ধ্বনি উৎপন্ন করতে সাহায্য করে।
  • তালু: মুখবিবরের ছাদ, কোমল ও শক্ত তালু দ্বারা তৈরি, অনুনাসিক ও কণ্ঠ্যধ্বনি উৎপন্ন করে।
  • মূর্ধা: শক্ত তালু ও দাঁতের মধ্যবর্তী অংশ, কিছু ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে জিভ মূর্ধাকে স্পর্শ করে।
  • দন্তমূল: দন্তদাঁতের গোড়া, জিভের স্পর্শে ধ্বনি উৎপন্ন হয়।
  • ওষ্ঠ: ঠোঁট, স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • নাসিকা: নাকের ছিদ্র দিয়ে বাতাস বের হয়ে ধ্বনি উৎপন্ন হতে পারে।

বাগযন্ত্র

ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলোকে একত্রে বাগযন্ত্র বলে। মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগযন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। বাগযন্ত্রের বিভিন্ন অংশ নিচের ছবিতে দেখানো হলো এবং এগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হলো।

ফুসফুস

ধ্বনি সৃষ্টিকারী বায়ুপ্রবাহের উৎস ফুসফুস। ফুসফুস শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ করে। মূলত শ্বাস ত্যাগের মাধ্যমে ধ্বনি উৎপন্ন হয়।

ফুসফুস থেকে বাতাস শ্বাসনালি হয়ে মুখবিবর ও নাসারন্ধ্র দিয়ে বের হয়ে আসে।

স্বরযন্ত্র

শ্বাসনালির উপরের অংশে স্বরযন্ত্রের অবস্থান। মেরুদণ্ডের ৪, ৫ ও ৬ নং অস্থির পাশে থাকা এই অংশটি নলের মতো। বাতাস স্বরযন্ত্রের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে বলে ধ্বনির সৃষ্টি হয়। অধিজিহ্বা, স্বররন্ধ্র, ধ্বনিদ্বার ইত্যাদি স্বরযন্ত্রের অংশ।

জিভ

মুখগহ্বরের নিচের অংশে জিভের অবস্থান। বাগ্যন্ত্রের মধ্যে জিভ সবচেয়ে সচল ও সক্রিয় প্রত্যঙ্গ। জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং মুখগহ্বরের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে জিভের স্পর্শের প্রকৃতি অনুযায়ী ধ্বনির বৈচিত্র্য তৈরি হয়।

আলজিভ

মুখগহ্বরের কোমল তালুর পিছনে ঝুলন্ত মাংসপিণ্ডের নাম আলজিভ। ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে কোমল তালুর সঙ্গে আলজিভ নিচে নেমে এলে বাতাস মুখ দিয়ে পুরোপুরি বের না হয়ে খানিকটা নাক দিয়ে বের হয়। এর ফলে নাসিক্য ধ্বনি তৈরি হয়।

তালু

মুখবিবরের ছাদকে বলা হয় তালু। তালুর দুটি অংশ কোমল তালু ও শক্ত তালু। অনুনাসিক স্বরধ্বনি - উচ্চারণে কোমল তালু নিচে নামে। কোমল তালু ও জিভমূলের স্পর্শে কণ্ঠ্যধ্বনি উচ্চারিত হয়। দন্তমূলের শুরু থেকে কোমল তালু পর্যন্ত বিস্তৃত অংশকে বলা হয় শক্ততালু।

মুর্ধা

শক্ত তালু ও উপরের পাটির দাঁতের মধ্যবর্তী উত্তল অংশকে মূর্ধা বলে। কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ মূর্ধাকে স্পর্শ করে।

দন্তমূল ও দন্ত

দাঁতের গোড়ার নাম দন্তমূল। উপরের পাটির দন্তমূল ও দাঁতের সঙ্গে জিভের স্পর্শে বেশ কিছু ধ্বনি উৎপন্ন হয়।

ওষ্ঠ

বাকপ্রত্যঙ্গের সবচেয়ে বাইরের অংশের নাম ওষ্ঠ বা ঠোঁট। ওষ্ঠের মধ্যকার ফাঁকের কম-বেশির ভিত্তিতে স্বরধ্বনিকে সংবৃত ও বিবৃত এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এছাড়া ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণ করতে ওষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নাসিকা

মুখগহ্বরের পাশাপাশি নাসিকা বা নাকের ছিদ্র দিয়ে বাতাস বের হয়েও ধ্বনি উৎপন্ন হয়।

Content added || updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুশীলনী

1.5k

সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন (✓) দাও। 

১. কোনটি বাগ্‌যন্ত্র? ক. পাকস্থলী খ. ফুসফুস গ. পিত্তকোষ ঘ. যকৃৎ 

২. ফুসফুস থেকে তৈরি বাতাস কিসের মাধ্যমে বের হয়? ক. নাসারন্ধ্র খ. মুখবিবর গ. তালু ঘ. ক ও খ উভয়ই 

৩. বাষ্প্রত্যঙ্গের সবচেয়ে বাইরের অংশের নাম - ক. তালু খ. মূর্ধা গ. দন্ত ঘ. ওষ্ঠ 

৪. বাগ্‌যন্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে সচল ও সক্রিয় প্রত্যঙ্গ কোনটি? ক. দাঁত খ. মূর্ধা গ. দন্তমূল ঘ. জিভ 

৫. মুখ-গহ্বরের কোন অংশে তালুর অবস্থান? ক. সামনে খ. পিছনে গ. উপরে ঘ. নিচে 

৬. নাসিক্য ধ্বনি তৈরি হয় কীভাবে? ক. আলজিভ নিচে নেমে এলে খ. জিভ তালুতে স্পর্শ করলে গ. ঠোঁটের ফাঁকা কম-বেশি হলে ঘ. জিভ মূর্ধায় স্পর্শ করলে

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...